ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত ব্যক্তির শাস্তি

নামায ত্যাগ ও আরও বেশ কিছু পাপ করলে একজন মুসলিমও ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত মুরতাদ হয়ে যায়।নামায(সালাত) ত্যাগ বা অন্য কোন কারণে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়া ব্যক্তির(মুরতাদ) ওপর ইসলাম ইহকালীন ও পরকালীন কিছু শাস্তির বিধান রেখেছে।নিম্নে বাংলাদেশি মুসলিম সমাজের অজ্ঞতা দূরীকরণে সে সম্পর্কেই কিছু আলোকপাত করছি।

ইহকালীন বিধান

“””””””””””””””

নামাজ ত্যাগ বা অন্যান্য কারণে মুরতাদ হওয়া ব্যক্তির ইসলামী আইন ইহকাল তথা এই পৃথিবীতেই কিছু শাস্তির বিধান রেখেছে।যথা:

১।অভিভাবকত্ব শেষ হয়ে যাওয়া:

ইসলামী শিক্ষা বিশারদগণ(ফুকাহায়ে কিরাম) এ ব্যপারে একমত যে,ইসলাম যেসব ক্ষেত্রে বিলায়াত(অভিভাবকতার) শর্তারোপ করেছে,সেসব ক্ষেত্রে কোন মুরতাদকে ওলী(অভিভাক) নিযুক্ত করা বৈধ নয়।যেমন:-বিয়েতে ওলী হওয়া।

২।আত্মীয়দের মিরাস হতে বঞ্চিত:

মুরতাদ ব্যক্তি তার পিতামাতা,সন্তানাদি ও অন্যান্য আত্মীয়দের মিরাস তথা মৃত্যুর পর তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হবে। ওসামা বিন যায়েদ(রা) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন,রাসুল(সা) বলেছেন, “মুসলিম কাফিরের ওয়ারিশ হবেনা আর কাফিরও মুসলিমের ওয়ারিশ হবেনা।”-(বুখারী,মুসলিম)

৩।মক্কায় প্রবেশ নিষিদ্ধ:

মুরতাদের জন্য মক্কা ও মসজিদুল হারামের এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ।মহান আল্লাহ বলেন, “হে মুমিনগণ,মুশরিকরা নাপাক।সুতারাং এই বছরের পর তারা যেন মসজিদে হারামের নিকটবর্তীও না হতে পারে।”-(সুরা তাওবা-২৮)

৪।মুরতাদের যবেহকৃত জন্তু হারাম:

এব্যাপারে ওলামায়ে কেরাম একমত যে,সালাত ত্যাগ বা অন্যান্য কারণে মুরতাদ হওয়া ব্যক্তির যবেহকৃত গরু,ছাগল,উট,দুম্বা ইত্যাদি হালালা জন্তুর গোশত হারাম।কেননা,যেবহ করার একটি শর্ত হলো,যবেহকারীকে একজন মুসলিম অথবা কিতাবী হতে হবে।মুরতাদ,মুশরিকদের যবেহকৃত জন্তু হালাল হবেনা।

৫।তার জন্য জানাজা পড়া,রহমত ও মাগফিরাত কামনা করা নিষিদ্ধ:

বেনামাজি ও অন্য কোন কারণে মুরতাদ হওয়া ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার জানাজা পড়া হারাম এবং তার জন্য মাগফিরাত তথা ক্ষমা প্রার্থনা করা ও রহমতের(কল্যাণ ও করুণার) দোয়া করা হারাম।মহান আল্লাহ বলেন, “তাদের কেউ মারা গেলে তার জানাজা তুমি কখনো পড়বেনা,তার কবরের পাশে কখনোই দাড়াবে না।কেননা তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সাথে কুফুরি করেছে।আর তারা মরেছে এমন অবস্থায় যে তারা ফাসিক ছিল।”-(সুরা তাওবা-৮৪)

আল্লাহ আরও বলেন,

“নবী এবং ইমানদার লোকদের জন্য শোভা পায়না যে,তারা মুশরিকদের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করবে;তারা তাদের আত্মীয়স্বজনই হোক না কেন।যখন তাদের নিকট একথা সুস্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে তারা জাহান্নামে যাবারই উপযুক্ত।”-(সুরা তাওবা-১১৩)

৬।মুসলিম নারী পুরুষের সাথে বিবাহ হারাম:

বেনামাজি ও অন্য কোন কারণে মুরতাদ হয়ে যাওয়া নারী পুরুষের সাথে মুসলিম নারী পুরুষের বিবাহ স্পষ্ট দলীল ও ইজমা দ্বারা হারাম।মহান আল্লাহ বলেন,

“হে ইমানদার লোকেরা,ইমানদার নারীরা যখন হিযরত করে তোমাদের নিকট আসবে,তখন তাদের(ইমানদার হওয়ার ব্যপারটা) যাচাই করো;আর তাদের ইমানের প্রকৃত অবস্থা আল্লাহই ভালো জানেন।তোমরা যদি নিঃসন্দেহে জানতে পার তারা মুমিনা,তবে তাদের কাফিরদের নিকট ফিরিয়ে দিওনা।না তারা কাফিরদের জন্য হালাল;আর না কাফিররা তাদের জন্য হালাল।”-(সুরা মুমতাহিনা-১০)

* * * * * *

পরকালীন বিধান

“””””””””””””””””””””””

নামাজ ত্যাগ বা অন্যান্য কারণে মুরতাদ হওয়া ব্যক্তির ইসলামী আইন পরকাল তথা মৃত্যু পরবর্তী জীবনে কিছু শাস্তির বিধান রেখেছে।যথা:

১।ফেরেশতাগণ তাদের ধমকাতে ও শাসাতে থাকবে।কেবল তাই নয়,তাদের মুখমন্ডল ও পশ্চাতে আঘাত করতে থাকবে।মহান আল্লাহ বলেন,

“তোমরা যদি সেই অবস্থা দেখতে পেতে;ফেরেশতারা যখন কাফিরদের জান কবজ করছিল,এবং বলছিল ‘নাও,এখন আগুনে জ্বলবার শাস্তি ভোগ কর!’ এটা সেই শাস্তি যার আয়োজন তোমাদের হাতসমূহ পূর্বেই করেছিল।নতুবা আল্লাহ তো তাঁর বান্দাদের প্রতি জুলুমকারী নন।”-(সুরা আনফাল ৫০-৫১)

২।তাদের হাশর হবে কাফির ও মুশরিকদের সাথে।কেননা তারা তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।আল্লাহ বলেন, “(হুকুম হবে)সব জালেম,তাদের সব সঙ্গী সাথী এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে তারা যেসব মাবুদের বন্দেগি করত তাদের সকলকেই ঘেরাও করে নিয়ে এসো।অত:পর তাদেরকে জাহান্নামের পথ দেখাও।”-(সুরা সফফাত ২২-২৪)

৩।বেনামাজি ও অন্য কোন কারণে মুরতাদ হওয়া ব্যক্তিরা জাহান্নামে চিরদিন থাকবে।মহান আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহ কাফিরদের প্রতি অভিশাপ করেছেন এবং তাদের জন্য জলন্ত আগুন প্রস্তুত করে রেখেছেন,সেখানে তারা কোন সাহায্যকারী বন্ধু পাবেনা।সেদিন তাদের মুখমন্ডল আগুনের ওপর উল্টানো পাল্টানো হবে।তখন তারা বলবে, হায়! আমরা যদি আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য করতাম।”-(সুরা আহযাব ৬৪-৬৬)

এই বিরাট মাসয়ালাটি সংক্ষেপে এখানেই সমাপ্ত করলাম,যে সমস্যায় আজ অনেকেই জড়িত।যে ব্যক্তি তওবা করতে চায় তার জন্য তওবার দরজা উন্মুক্ত।অতএব হে ভাইগণ!আল্লাহর নিকট একনিষ্ঠতার সাথে অতীতের পাপের জন্য লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করুন যে,আমি আর পাপের কাজে যাবনা,এবং খুব বেশি বেশি সৎ কাজ করবো।মহান আল্লাহ বলেন,

“যারা (এসব গুনাহ করার পর) তওবা করে নিয়েছে এবং ইমান এনে আমল করতে শুরু করেছে এই লোকদের দোষত্রুটি এবং অন্যায়কে আল্লাহ ভালো দ্বারা পরিবর্তন করে দিবেন।আর তিনি বড়ই ক্ষমাশীল,দয়াবান।যে ব্যক্তি তওবা করে নেক আমলের নীতি গ্রহন করে।সে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে যেমন ফিরে আসা উচিত।”-(সুরা ফুরকান ৭০-৭১)

মহান আল্লাহই ভালো জানেন।

Advertisements

ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত ব্যক্তির শাস্তি

নামায ত্যাগ ও আরও বেশ কিছু পাপ করলে একজন মুসলিমও ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত মুরতাদ হয়ে যায়।নামায(সালাত) ত্যাগ বা অন্য কোন কারণে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়া ব্যক্তির(মুরতাদ) ওপর ইসলাম ইহকালীন ও পরকালীন কিছু শাস্তির বিধান রেখেছে।নিম্নে বাংলাদেশি মুসলিম সমাজের অজ্ঞতা দূরীকরণে সে সম্পর্কেই কিছু আলোকপাত করছি।

ইহকালীন বিধান

“””””””””””””””

নামাজ ত্যাগ বা অন্যান্য কারণে মুরতাদ হওয়া ব্যক্তির ইসলামী আইন ইহকাল তথা এই পৃথিবীতেই কিছু শাস্তির বিধান রেখেছে।যথা:

১।অভিভাবকত্ব শেষ হয়ে যাওয়া:

ইসলামী শিক্ষা বিশারদগণ(ফুকাহায়ে কিরাম) এ ব্যপারে একমত যে,ইসলাম যেসব ক্ষেত্রে বিলায়াত(অভিভাবকতার) শর্তারোপ করেছে,সেসব ক্ষেত্রে কোন মুরতাদকে ওলী(অভিভাক) নিযুক্ত করা বৈধ নয়।যেমন:-বিয়েতে ওলী হওয়া।

২।আত্মীয়দের মিরাস হতে বঞ্চিত:

মুরতাদ ব্যক্তি তার পিতামাতা,সন্তানাদি ও অন্যান্য আত্মীয়দের মিরাস তথা মৃত্যুর পর তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হবে। ওসামা বিন যায়েদ(রা) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন,রাসুল(সা) বলেছেন, “মুসলিম কাফিরের ওয়ারিশ হবেনা আর কাফিরও মুসলিমের ওয়ারিশ হবেনা।”-(বুখারী,মুসলিম)

৩।মক্কায় প্রবেশ নিষিদ্ধ:

মুরতাদের জন্য মক্কা ও মসজিদুল হারামের এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ।মহান আল্লাহ বলেন, “হে মুমিনগণ,মুশরিকরা নাপাক।সুতারাং এই বছরের পর তারা যেন মসজিদে হারামের নিকটবর্তীও না হতে পারে।”-(সুরা তাওবা-২৮)

৪।মুরতাদের যবেহকৃত জন্তু হারাম:

এব্যাপারে ওলামায়ে কেরাম একমত যে,সালাত ত্যাগ বা অন্যান্য কারণে মুরতাদ হওয়া ব্যক্তির যবেহকৃত গরু,ছাগল,উট,দুম্বা ইত্যাদি হালালা জন্তুর গোশত হারাম।কেননা,যেবহ করার একটি শর্ত হলো,যবেহকারীকে একজন মুসলিম অথবা কিতাবী হতে হবে।মুরতাদ,মুশরিকদের যবেহকৃত জন্তু হালাল হবেনা।

৫।তার জন্য জানাজা পড়া,রহমত ও মাগফিরাত কামনা করা নিষিদ্ধ:

বেনামাজি ও অন্য কোন কারণে মুরতাদ হওয়া ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার জানাজা পড়া হারাম এবং তার জন্য মাগফিরাত তথা ক্ষমা প্রার্থনা করা ও রহমতের(কল্যাণ ও করুণার) দোয়া করা হারাম।মহান আল্লাহ বলেন, “তাদের কেউ মারা গেলে তার জানাজা তুমি কখনো পড়বেনা,তার কবরের পাশে কখনোই দাড়াবে না।কেননা তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সাথে কুফুরি করেছে।আর তারা মরেছে এমন অবস্থায় যে তারা ফাসিক ছিল।”-(সুরা তাওবা-৮৪)

আল্লাহ আরও বলেন,

“নবী এবং ইমানদার লোকদের জন্য শোভা পায়না যে,তারা মুশরিকদের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করবে;তারা তাদের আত্মীয়স্বজনই হোক না কেন।যখন তাদের নিকট একথা সুস্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে তারা জাহান্নামে যাবারই উপযুক্ত।”-(সুরা তাওবা-১১৩)

৬।মুসলিম নারী পুরুষের সাথে বিবাহ হারাম:

বেনামাজি ও অন্য কোন কারণে মুরতাদ হয়ে যাওয়া নারী পুরুষের সাথে মুসলিম নারী পুরুষের বিবাহ স্পষ্ট দলীল ও ইজমা দ্বারা হারাম।মহান আল্লাহ বলেন,

“হে ইমানদার লোকেরা,ইমানদার নারীরা যখন হিযরত করে তোমাদের নিকট আসবে,তখন তাদের(ইমানদার হওয়ার ব্যপারটা) যাচাই করো;আর তাদের ইমানের প্রকৃত অবস্থা আল্লাহই ভালো জানেন।তোমরা যদি নিঃসন্দেহে জানতে পার তারা মুমিনা,তবে তাদের কাফিরদের নিকট ফিরিয়ে দিওনা।না তারা কাফিরদের জন্য হালাল;আর না কাফিররা তাদের জন্য হালাল।”-(সুরা মুমতাহিনা-১০)

* * * * * *

পরকালীন বিধান

“””””””””””””””””””””””

নামাজ ত্যাগ বা অন্যান্য কারণে মুরতাদ হওয়া ব্যক্তির ইসলামী আইন পরকাল তথা মৃত্যু পরবর্তী জীবনে কিছু শাস্তির বিধান রেখেছে।যথা:

১।ফেরেশতাগণ তাদের ধমকাতে ও শাসাতে থাকবে।কেবল তাই নয়,তাদের মুখমন্ডল ও পশ্চাতে আঘাত করতে থাকবে।মহান আল্লাহ বলেন,

“তোমরা যদি সেই অবস্থা দেখতে পেতে;ফেরেশতারা যখন কাফিরদের জান কবজ করছিল,এবং বলছিল ‘নাও,এখন আগুনে জ্বলবার শাস্তি ভোগ কর!’ এটা সেই শাস্তি যার আয়োজন তোমাদের হাতসমূহ পূর্বেই করেছিল।নতুবা আল্লাহ তো তাঁর বান্দাদের প্রতি জুলুমকারী নন।”-(সুরা আনফাল ৫০-৫১)

২।তাদের হাশর হবে কাফির ও মুশরিকদের সাথে।কেননা তারা তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।আল্লাহ বলেন, “(হুকুম হবে)সব জালেম,তাদের সব সঙ্গী সাথী এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে তারা যেসব মাবুদের বন্দেগি করত তাদের সকলকেই ঘেরাও করে নিয়ে এসো।অত:পর তাদেরকে জাহান্নামের পথ দেখাও।”-(সুরা সফফাত ২২-২৪)

৩।বেনামাজি ও অন্য কোন কারণে মুরতাদ হওয়া ব্যক্তিরা জাহান্নামে চিরদিন থাকবে।মহান আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহ কাফিরদের প্রতি অভিশাপ করেছেন এবং তাদের জন্য জলন্ত আগুন প্রস্তুত করে রেখেছেন,সেখানে তারা কোন সাহায্যকারী বন্ধু পাবেনা।সেদিন তাদের মুখমন্ডল আগুনের ওপর উল্টানো পাল্টানো হবে।তখন তারা বলবে, হায়! আমরা যদি আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য করতাম।”-(সুরা আহযাব ৬৪-৬৬)

এই বিরাট মাসয়ালাটি সংক্ষেপে এখানেই সমাপ্ত করলাম,যে সমস্যায় আজ অনেকেই জড়িত।যে ব্যক্তি তওবা করতে চায় তার জন্য তওবার দরজা উন্মুক্ত।অতএব হে ভাইগণ!আল্লাহর নিকট একনিষ্ঠতার সাথে অতীতের পাপের জন্য লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করুন যে,আমি আর পাপের কাজে যাবনা,এবং খুব বেশি বেশি সৎ কাজ করবো।মহান আল্লাহ বলেন,

“যারা (এসব গুনাহ করার পর) তওবা করে নিয়েছে এবং ইমান এনে আমল করতে শুরু করেছে এই লোকদের দোষত্রুটি এবং অন্যায়কে আল্লাহ ভালো দ্বারা পরিবর্তন করে দিবেন।আর তিনি বড়ই ক্ষমাশীল,দয়াবান।যে ব্যক্তি তওবা করে নেক আমলের নীতি গ্রহন করে।সে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে যেমন ফিরে আসা উচিত।”-(সুরা ফুরকান ৭০-৭১)

মহান আল্লাহই ভালো জানেন।

বন্যার্তদের পাশে দাড়ানো ইসলামী দায়িত্ব

প্রাকৃতিক দূর্যোগ এলে অনেকে প্রকাশ্যে,অনেকে মনে মনে আল্লাহকে দায়ী করে।কিন্তু আল্লাহ বলেন,

‘আল্লাহ মানুষের প্রতি জুলুম করেন না;বরং মানুষ নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করে।’-(সুরা ইউনুস-৪৪)

দাদুর নিকট শুনেছি,একসময় এদেশের নদীগুলো ছিল বেশ বড় বড়।সারা বছর পানি থাকতো।এমনকি করতোয়া নদীও যেটা আজ সাপের মত দেখা যায়;একসময় বেশ চওড়া ছিল।হাল আমলে ভারতের বাধ নির্মাণে শুকনা মৌসুমে এদেশের নদীগুলো শুকিয়ে যায়।সেই সুযোগে কিছু অসাধু ও অসচেতন মানুষ নদী তীর দখল,রাস্তাঘাটে মানুষের ফেলা পলিথিন ও ময়লা আবর্জনা বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে নদীতে গিয়ে নদীর গভীরতা ও প্রশস্ততা কমিয়ে এনেছে।ফলে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি ধারন ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বারবার ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়তে হয় আমাদের।তাছাড়া একে তো আমাদের যথেষ্ট পানি নিষ্কাষণের ব্যবস্থা নেই।তার ওপর যত্রতত্র মানুষের পলিথিন ও ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।কি আর করা,আমাদের তো যথেষ্ট ডাস্টবিনের ব্যবস্থা ও ব্যবহারও নেই।

মহান স্রষ্টা আল্লাহ রব্বুল আলামিন যেমন পানির উৎসসমূহ সৃষ্টি করেছেন,তেমনি তা নিষ্কাষণের জন্য অনেক নদীনালাও সৃষ্টি করেছেন।কিন্তু আমাদের কারণে সেসবের গভীরতা ও প্রশস্ততা কমিয়ে যাওয়ায় আমাদেরকে বিপদের মুখে পড়তে হচ্ছে।এভাবে বন্যা,খরা ও অন্যান্য প্রাকৃতিকবিপর্যয়ের একমাত্র কারণ ‘প্রকৃতির ওপর মানুষের অযাচিত হস্তক্ষেপ’ এবং ‘প্রকৃত স্রষ্টার অবাধ্যতা ও পাপাচার।’এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন,

‘তোমাদের যে বিপদ-আপদ ঘটে তা তো তোমাদের কর্মফল। আমি তোমাদের অনেক অপরাধ মাফ করে থাকি’।-(সূরা শুরা-৩০)।

আল্লাহ আরো বলেন, ‘মানুষের কৃতকর্মের জন্য জলে-স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে তাদেরকে কোনো কোনো কর্মের শাস্তি আস্বাদন করানো হয়, যেন তারা সৎ পথে ফিরে আসে’।-(সূরা রুম : ৪১)।

আল্লাহ আরও বলেন, ‘তারা কি দেখে না যে তারা প্রতি বছর দু-একবার বিপর্যস্ত হয়? এরপরও তারা তাওবা করে না এবং উপদেশ গ্রহণ করে না’।-(সূরা তাওবা: ১২৬)।

এবারও দেশ এক ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে।ভারত ফারাক্কার প্রায় সব গেট খুলে দিয়েছে।এদেশে জরাজীর্ণ মৃতপ্রায় নদীগুলো দিয়ে হুহু করে পানি আসছে।দিনকে দিন পানি বেড়েই চলছে,লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে মানুষ,গবাদি পশুপাখি মারা পড়ছে।অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। বর্তমান সরকারের সাথে ভারতের সম্পর্ক বেশ ভাল তা প্রায় সবারই জানা।তথাপি দীর্ঘদিন এই সরকার থাকার পরও ভারতীয় আচরণের কোনই পরিবর্তন নেই বলা চলে।ঐ সেই শুকনা মৌসুমে পানি আটকানো আর বর্ষা মৌসুমে ছেড়ে দেয়া।তাই লোকমুখে একটা শোনা যাচ্ছে, “দাদাবাবুদের সহযোগিতায় দেশ উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে।”

যাইহোক,বন্যা যখন এসেই পড়েছে তখন বন্যার্তদের পাশে তো দাড়াতেই হবে।তারা এখন বন্যার পানিতে ঘর-বাড়ি সহায় সম্বল হারিয়ে অসহায়।আরবি ভাষায় বলতে গেলে ফকির মিসকিনে পরিণত হয়েছে।

সামনে কুরবানির ইদ।আর পাশেই বন্যার্তদের হাহাকার।এই সুযোগে কেউ কেউ নিজদের জিরো থেকে হিরো বানাতে কুরবানি না দিয়ে সেই টাকা বন্যার্তদের দিয়ে দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছে।কেউবা সামর্থ্যের অর্ধেক কুরবানি,বাকি অর্ধেক বন্যার্তদের দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছে(যেটা ইসলাম সমর্থন করেনা)।অথচ গরীব অসহায়দের অধিকার যাকাতের কথা একবারও বলেনা।ওরা মুলত যাকাত অনাদায়কারী,গরীব অসহায়দের অধিকারদের হরণকারী।

কুরবানি করা ওয়াজিব।আল্লাহ বলেন, ‘আমি প্রত্যেক উম্মাহর জন্য কুরবানির নিয়ম নির্ধারন করে দিয়েছি।’-(সুরা হজ্জ-৩৪) সুতারাং সামর্থ্য থাকার পরেও যারা কুরবানি না করে কুরবানির টাকা বন্যার্তদের অথবা অসহায় হতদরিদ্রদের দান করবে তারা কি আল্লাহর চাইতে নিজেকে বেশী দয়ালু মনে করে?যারা মহান আল্লাহর বিধান অমান্য করে তারা কি করে মুসলিম হয়? তারাতো স্পষ্ট কাফিরে পরিনত হবে। ওয়াজিব কুরবানী করা এক জিনিস আর বন্যার্তদের দান করা আরেক জিনিস।গন্ডমূর্খরা কেন বুঝে না যার কুরবানি করার সামর্থ আছে তার গরীব দুঃখীদের দান করারও যোগ্যতা রয়েছে। কারন হল কুরবানি হচ্ছে যার সামর্থ রয়েছে তার জন্য।আর এই কোরবানিতে চার শ্রেনির মানুষ উপকৃত হয়।যথা:পশু পালনকারী কৃষক,পশু ব্যবসায়ী,চামড়া ব্যবসায়ী ও শিল্প কারখানা,পশু মোটাতাজাকরণ ব্যবসায়ী।এখন যদি কুরবানিই বন্ধ হয়ে যায় তবে বন্যাকবলিতরাও তাদের পশু বিক্রি করতে না পেরে কতটা ক্ষতির মুখে পড়বে?অন্যান্যরাও কতটা ক্ষতির মুখে পড়বে?

ওরাতো বন্যার্ত অসহায়দের দান করতে বলছে।কিন্তু ইসলাম দান করতে নয়,ওদের অধিকার ওদের দিতে বলে।আল্লাহ বলেন, ‘তাদের (ধনীদের) সম্পদে রয়েছে প্রার্থী ও বঞ্চিতদের অধিকার।’-(সুরা যারিয়াত-১৯)

তাহলে কারা হিরো?ওরা না ইসলাম?ওরা তো বন্যায় কিছু মানুষের ক্ষয়ক্ষতি ও নির্মম মৃত্যু হবার পর কেবল বাহ বাহ পাবার জন্য তাদের পাশে দাড়ানোর কথা ভাবছে।আর ইসলাম প্রতিবছর অসহায়দের অধিকার যাকাত দেয়া বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে।সুতারাং অসহায় বন্যার্তদের পাশে দাড়ানো মুসলমানদের জন্য দয়া বা করুণা নয়;এটা তাদের ইসলামী দায়িত্ব।নিজেদের মুসলিম দাবী করার পরও যারা অসহায়দের অধিকার যাকাত আদায় না করে হরণ করে।বন্যার্তদের জন্য তাদের এত মায়া কান্না অত্যন্ত বেমানান।

অতএব,ওহে আমার দ্বীনি ভাইগণ,আমরা সবাই মিলে বন্যার্তদের পাশে দাড়াই এবং আমাদের ইসলামী দায়িত্ব পালন করে দায়মুক্ত হই।আর গরীব অসহায়দের স্রষ্টা প্রদত্ত অধিকার যাকাত আদায়ে সচেষ্ট হই।যদিও যাকাত আদায় করা ও নির্ধারিত খ্যাতসমূহে বন্টন করা মুসলিম সরকারের দায়িত্ব।কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের সরকার নিজেদের মুসলিম দাবী করলেও ইসলামী দায়িত্ব থেকে অনেক দুরে সরে থাকে।তাই আসুন আমরা নিজেরাই তা আদায় করে বন্টন করি।

ব্যক্তি স্বাধীণতার বুলি;কেবল ধর্মের বিরুদ্ধেই কেন?

যদি আমরা এদাবীতে আন্দোলন করি যে,যারা নিজেদের মুসলিম দাবী করে,এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য আইন করে নামাজ আদায় বাধ্যতামূলক করতে হবে।রমজান মাসের রোজা পালন করা বাধ্যতামূলক করতে হবে।সুদ-ঘুষের কারবার নিষিদ্ধ করতে হবে।প্রত্যেক মুসলিম নারীর জন্য পর্দা করা আবশ্যক করতে হবে।সহশিক্ষা বাতিল করতে হবে।ইসলামে হালাল-হারাম বিষয়গুলো প্রত্যেক মুসলিম দাবীদারদের কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।অন্যথায় শাস্তিভোগ করতে হবে। তখনি একদল চেতনাধারীরা “ব্যক্তি স্বাধীণতা” গেল গেল বলে চিৎকার চেচামেচি শুরু করবে।তাদেরকে বলছি,নিচের লেখাগুলোতে একটু চোখ বুলান।দেখুন তো,চোখ কপালে ওঠে কি না।

১- আইন: কোন মানুষের এ অধিকার নেই যে, সে রাস্তাতে সাধারণ চলাচলের বিপরীত দিকে চলবে বা গাড়ী চালাবে। অথবা লাইসেন্স ছাড়া কোন দোকান-পাট খুলবে। যদি সে বলে আমি স্বাধীন; কেউ তার দিকে ভ্রুক্ষেপও করবে না।

২- সামাজিক প্রথা: কোন নারী সাগর যাপনের পোশাক পরে কোন মৃতব্যক্তির শোকাহত বাড়ীতে যেতে পারে না! যদি বলে আমি স্বাধীন, মানুষ তাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করবে, তাড়িয়ে দিবে। কারণ এটি প্রথার বিপরীত।

৩- সাধারণ রুচিবোধ: কোন ব্যক্তি মানুষের সামনে বায়ু ত্যাগ করতে পারে না! এমনকি ঢেকুর তুলতে পারে না। যদি সে বলে, আমি স্বাধীন, তাহলে মানুষ তাকে হেয় প্রতিপন্ন করে।

এখন বলতে চাই: ওপরে দেয়া বিষয় তিনটি কিন্তু মানুষের “ব্যক্তি স্বাধীণতা” হরণ করছে।তবুও এটা নিয়ে কোন চেতনাধারী চিৎকার চেচামেচি করতে আসবেনা।আশ্চর্য,এই “ব্যক্তি স্বাধীণতার বুলিটা কেবল ধর্মের বিরুদ্ধেই কেন?

কোন দেশের সরকার যদি আইন করে তার জনগণের “ব্যক্তি স্বাধীণতা” শৃঙ্খলিত করতে পারে,সামাজিক প্রথার কারণে যদি “ব্যক্তি স্বাধীণতা” শৃঙ্কলিত হতে পারে,সাধারণ রুচিবোধ দ্বারা যদি “ব্যক্তি স্বাধীণতা” শৃঙ্খলিত হতে পারে।তাহলে ধর্মের কেন এ অধিকার থাকবে না যে,তার অনুসারীদের স্বাধীনতাকে শৃঙ্খলিত করবে?যেমন- তাদের স্বাধীনতা বেশ কিছু বিষয় দ্বারা শৃঙ্খলিত হয়েছে যে বিষয়গুলোকে তারা অস্বীকার করতে পারে না?! কোন সন্দেহ নেই ইসলাম ধর্ম যা নিয়ে এসেছে এর মধ্যেই রয়েছে কল্যাণ ও মানুষের জন্য উপকার। নারীকে বেপর্দা হতে নিষেধ করা, মদপানে বারণ করা, শুকুর খেতে নিষেধ করা ইত্যাদি সব মানুষের শারীরিক, মানসিক ও জৈবনিক কল্যাণেই। কিন্তু ধর্ম যদি তাদের স্বাধীনতাকে বিধিবদ্ধ করে তখনি তারা সেটা প্রত্যাখ্যান করে। আর যদি তাদের মত অন্য কোন মানুষ বা অন্য কোন আইনের পক্ষ থেকে আসে তখন তারা বলে “শুনলাম ও মানলাম”

সুতারাং তথাকথিত চেতনাধারীরা আর কেউ নয়;এরা ধর্মবিদ্বেষী নাস্তিক মুরতাদ।এদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।সাধারণ মুসলমানদের ইমান আকিদা এদের হাত থেকে বাঁচাতে হবে।

যে শাসক আল্লাহর আইন অনুযায়ী শাসন করে না তাকে নির্বাচিত করা যাবে কি?

অনেক বছর পর দেশে আবারও নির্বাচনী হওয়া বইতে শুরু করেছে।জনপ্রতিনিধিগণ দেশের কোথাও না কোথাও প্রায় প্রতিদিনই নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।যদিও নির্বাচন এখনও এক/দেড় বছর দুরে।তো যাই হোক,এদেশের প্রায় ৯০% মানুষ মুসলিম।নির্বাচনী ইশতে হারে জনপ্রতিনিধিগণ দেশের উন্নয়ন বিষয়ক অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন।তার অনেক বাস্তবায়িত হয়,অনেক হয় না।তবে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ঈমান আকিদার বিষয়টি প্রধান দু’টি দলের নির্বাচনী ইশতেহারে কখনো স্থান পায়নি।অথচ একটি মুসলিম দেশের জন্য মুসলিমদের ঈমান আকিদা রক্ষার বিষয়টি আবশ্যিক থাকবে।কিন্তু ইসলামে অজ্ঞ এদেশীয় মুসলিমরা কেবল উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিতেই ভুলে গিয়ে নিজেদের ঈমানকে শূণ্যের কোঠায় এনে দাড় করিয়েছে।তাদের এই অজ্ঞতা দুর করার প্রয়াসে আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা,”যে শাসক আল্লাহর আইন অনুযায়ী শাসন করে না তাকে নির্বাচিত করা যাবে কি?”

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

ঈমানদারেরা সুদৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, আল্লাহর আইনের চেয়ে উত্তম কোন আইন নেই। আল্লাহর আইন বিরোধী সকল বিধান জাহেলী বিধান।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

“তারা কি তবে জাহিলিয়্যাতের বিধান চায়? আর নিশ্চিত বিশ্বাসী কওমের জন্য বিধান প্রদানে আল্লাহর চেয়ে কে অধিক উত্তম?”[সূরা মায়েদা-৫০]

আল্লাহর উপর ঈমান ও রাসূলদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে সেগুলোর প্রতি ঈমান আনার পর আল্লাহর আইন বাদ দিয়ে অন্য কোন আইন গ্রহণ করার প্রবণতাকে আল্লাহ তাআলা ‘বিস্ময়কর’ ঘোষণা করেছেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

“আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা দাবী করে যে, যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং আপনার পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে আমরা সে বিষয়ের উপর ঈমান এনেছি।(এরপরও) তারা তাগূতের কাছে বিচার নিয়ে যেতে চায় অথচ তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাকে অস্বীকার করতে। আর শয়তান চায় তাদেরকে ঘোর বিভ্রান্তিতে বিভ্রান্ত করতে।”[সূরা নিসা-৬০]

শানকিতি (রহঃ) বলেন: “আল্লাহ তাআলা উল্লেখ করেছেন যে, যারা আল্লাহর আইন বাদ দিয়ে অন্য আইনে শাসন করে আল্লাহ তাদের ঈমানের দাবীর প্রতি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। কারণ তাগুতের কাছে বিচার ফয়সালা চাওয়ার পরেও ঈমানের দাবী- মিথ্যা ছাড়া আর কিছু নয়। এমন মিথ্যা সত্যিই বিস্ময়কর।”

আল্লাহ তাআলা তাঁর সত্তার শপথ করে বলছেন: কোন ব্যক্তি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসূলকে ফয়সালাকারী হিসেবে না মানা পর্যন্ত ঈমানদার হবে না। রাসূল যে ফয়সালা দিয়েছেন সেটাই হক্ব; প্রকাশ্যে ও গোপনে সেটাকে মেনে নিতে হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

“অতএব তোমার রবের কসম, তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে বিচারক নির্ধারণ করে, তারপর তুমি যে ফয়সালা দেবে সে ব্যাপারে নিজদের অন্তরে কোন দ্বিধা অনুভব না করে এবং পূর্ণ সম্মতিতে মেনে নেয়।”। [সূরা নিসা-৬৫]

আল্লাহ তাআলা বিবদমান বিষয়ে ফয়সালার দায়িত্ব রাসূলের উপর ছেড়ে দেয়া অপরিহার্য করে দিয়েছেন এবং এটাকে ঈমানের শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং আল্লাহর আইন ছাড়া অন্য কোন আইনের শাসন গ্রহণ করা ঈমানের পরিপন্থী।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

“অতঃপর কোন বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ কর তাহলে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে প্রত্যার্পণ কর- যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখ। এটি কল্যাণকর এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর।”[সূরা নিসা-৫৯]

ইবনে কাছির (রহঃ) বলেন: আয়াতে কারিমা “যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখ” নির্দেশ করছে যে, যে ব্যক্তি বিবদমান বিষয়ের ফয়সালা কুরআন ও সুন্নাহ হতে গ্রহণ করে না এবং এ দুটির কাছে ফিরে আসে না সে আল্লাহর প্রতি ও শেষ দিনের প্রতি ঈমানদার নয়।

পূর্বোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধান অনুযায়ী শাসনকার্য পরিচালনা করে না তাকে নির্বাচিত করা হারাম। কারণ এই নির্বাচনের মাধ্যমে এই হারামের প্রতি সন্তুষ্টি ও এই হারাম কাজে সহযোগিতা করা হলো। কোন মুসলমানকে যদি ভোট দিতে যেতে বাধ্য করা হয় তাহলে সে যেতে পারেন গিয়ে এই প্রার্থীর বিপক্ষে ভোট দিতে পারেন অথবা সম্ভব হলে তার ভোট নষ্ট করে দিতে পারেন। যদি এর কোনটাই তার পক্ষে করা সম্ভবপর না হয় এবং এই প্রার্থীর পক্ষে ভোট না দিলে সে নির্যাতিত হওয়ার আশংকা করে তাহলে আমরা আশা করছি এমতাবস্থায় তার কোন গুনাহ হবে না।

যেহেতু আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

“যার উপর জবরদস্তি করা হয় এবং তার অন্তর বিশ্বাসে অটল থাকে সে ব্যতীত” [সূরা নাহল-১০৬]

এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আমার উম্মতকে ভুল, বিস্মৃতি ও জবরদস্তির গুনাহ হতে নিষ্কৃতি দেয়া হয়েছে।”[সুনানে ইবনে মাজাহ (২০৪৫), আলবানী সহীহ ইবনে মাজাহ গ্রন্থে হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন]

আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।

অতএব,হে আমার দ্বীনি ভাইগণ!আমরা শুধু উন্নয়নে ভুলবো না।আবার আমাদের মাতৃভূমি ইসলাম প্রতিষ্ঠার নাম করে কেউ শোসন করবে এটাও কাম্য নয়।সুতারং যারা ইসলাম প্রতিষ্ঠা ও দেশের উন্নয়ন করবে তাদেরই আমরা চাই।

কী করে একজন মুসলিম হারাম কাজ করা উচিত মনে করে!!!

মুসলিম পরিবারের সন্তানরা ইসলামে হারাম কোন কাজ করলে বা কাজে অংশগ্রহন(গান-বাজনা,প্রাপ্ত বয়স্কদের নাচের অনুষ্ঠান ইত্যাদি) করলে বা গেলে বাবা মা শাসন করেন।এ খবর নামধারী মুসলিমদের মাঝে পৌঁছলে তারা এ শাসনের বিরোধীতা করেন।তারা বলেন, “বেশি শাসনে বেশি বিগড়ে যায়,এসবের স্বাধীণতা দেয়া উচিত,এসব করতে দেয়া উচিত ইত্যাদি।
হারাম কাজ করার স্বাধীণতা চাওয়ার বিধান:-

ইসলামে যা হারাম তা করার স্বাধীণতা চাওয়া ও মুসলিমদের তা করতে দেয়া উচিত বলে মতামত দেয়াটা হারামকে হালাল বলারই নামান্তর।আর হারাম কাজ করা পাপ কিন্তু হালাল জানা বড় কুফুরি।যা ইসলামের গন্ডি থেকে বের করে দেয়।কেননা আল্লাহ মুশরিকদের আচরণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,

‘আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তারা তাকে হারাম গণ্য করে না এবং সত্য দ্বীনকে তাদের দ্বীন হিসাবে গ্রহণ করে না’। -(সুরা তাওবা-২৯)।

সংবিধানে নিষিদ্ধ এমন কাজ করার স্বাধীণতা কোন দেশই দেবেনা।নামধারী মুসলিম ও ইসলাম বিদ্বেষীরা এটা নিয়ে কথা না তুললেও সংবিধান যখনই কুরআন তখনই আর সয়না।
স্বাধীধণতা চাওয়ার কারণ:-

‘বেশি শাসনে বেশি বিগড়ে যায়’ কথাটি সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।এ বিষয়ের আলোচনা শেষের দিকে আসছে।তার আগে একটু গবেষণা করে দেখা যাক,তারা মুসলিম হয়েও কেন ইসলামে হারাম বিষয়গুলো করার স্বাধীণতা দেয়া উচিত বলে মনে করে।এর কারণ আমরা কুরআন থেকেই উপস্থাপন করতে পারি।আল্লাহ বলেন,

‘তারা নিজেদের শপথসমূহকে(ইমানের শপথ) ঢাল বানিয়ে রেখেছে৷ এভাবে তারা নিজেরা আল্লাহর পথ থেকে বিরত থাকছে এবং অন্যদেরকেও বিরত রাখছে৷ এরা যা করছে তা কত মন্দ কাজ!’-(সুরা মুনাফিকুন-২)

এ আয়াত থেকে বুঝতে পারি আসলে তারা ইমানদার নয়।আর এ কারণেই ইসলামে হারাম বিষয়গুলো করার স্বাধীণতা তারা চায়।তবে তাদের ইমানের দাবীটা মুসলিম সমাজে বসবাস করার জন্য ঢালস্বরুপ।কিন্তু যারা হারাম বিষয়গুলো হতে বিরত থাকে এবং রাখে অথবা উভয়টির যথাযথ চেষ্টা করে,তাদের সম্পর্কে কেন বলে যে,এসব করতে দেয়া বা করার স্বাধীণতা দেয়া উচিত?এদের কী স্বার্থ আছে এতে?এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,

‘তারা তো এটাই চায়, তারা নিজেরা যেমন কাফের হয়েছে তেমনি তোমরাও কাফের হয়ে যাও, যাতে তারা ও তোমরা সমান হয়ে যাও৷’-(সুরা নিসা-৮৯)

সুতারাং বুঝা গেল তাদের চাওয়া আমরাও তাদের মত হয়ে যাই।
সন্তানকে শাসন করার রীতি:-

সন্তানকে স্নেহ-ভালবাসার পাশাপাশি কখনো শাস্তি দেয়ার প্রয়োজন হলে ঔষধ নির্ণয়ের মতো শাস্তির ধরন ও পরিমাণ নির্ণয়ে অত্যন্ত বিচক্ষণ হতে হবে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, শাস্তি প্রদানের উদ্দেশ্য ক্রোধ চরিতার্থ করা নয়; উদ্দেশ্য হল শিশুর সংশোধন। এজন্য শাস্তির বিষয়ে অত্যন্ত ধৈর্য্য ও সংযমের পরিচয় দেওয়া কর্তব্য।

সব শিশু প্রকৃতিগতভাবে এক ধরনের নয়। কেউ সামান্য শাসন দ্বারাই ঠিক হয়ে যায় আবার কাউকে শাস্তি দেওয়ার প্রয়োজন হয়। কেউ শাস্তির দ্বারা সংশোধিত হয়, কেউ আরো বিগড়ে যায়। এ বিষয়গুলো আগে থেকেই পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে স্থির করা উচিত এবং যার জন্য যে পরিমাণ শাসনের প্রয়োজন তার জন্য তা-ই প্রয়োগ করা উচিত।

শাসন ও শাস্তির ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রম অনুসরণ করা।অনেকে বেত ও শাস্তিকে সমার্থক মনে করে থাকেন। যেন বেত ছাড়া শাস্তির কোনো উপায় নেই। অথচ এটা হল সর্বশেষ ব্যবস্থা। পূর্বের ব্যবস্থাগুলো পরীক্ষা না করে চুড়ান্ত ব্যবস্থা প্রয়োগ করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়।

ইবনে মাছকুইয়াহ বলেন, ‘শিশুর প্রথম ভুল ক্ষমা করে দেওয়া উচিত। পুনরায় ওই ভুল হলে পরোক্ষভাবে শাসন করবে।যেমন তার উপস্থিতিতে বলা হল, ‘এই কাজ করা ঠিক নয়। কেউ যদি তা করে থাক তবে সাবধান হয়ে যাও এরপর সরাসরি শাসন করা যায়। এরপরও যদি ওই ভুল হয় তাহলে হালকা প্রহার করা যায়। এই সবগুলো পর্যায় অতিক্রম করার পরও যদি দেখা যায় সে সংশোধিত হয়নি তাহলে কিছুদিন তাকে আর কিছু বলবে না। এরপর আবার প্রথম থেকে আরম্ভ করবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি ইমাম মাওয়ারদী রাহ.-এর একটি নির্দেশনা উল্লেখ করেছেন। তা এই যে, ‘শিশুকে সংশোধন করা মুরববীর জন্য কঠিন হয়ে গেলে এবং অব্যাহত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তার মধ্যে আনুগত্য সৃষ্টি না হলে করণীয় হচ্ছে কিছু সময় তাকে অবকাশ দেওয়া। এরপর নতুনভাবে প্রচেষ্টা আরম্ভ করা।’-(আততারবিয়াতু ওয়াত তা’লীম ফিলফিকরিল ইসলামী)
পরিশেষে যেসব মুসলিম ভাইগণ এহেন পাপ কাজ ও মন্তব্য করেন তাদের জন্য মহান আল্লাহর নিকট হিদায়াত প্রার্থনা করছি।যদিও তাদের হিদায়াত পাবার আশা খুবই ক্ষীণ।কেননা আল্লাহ বলেন,

‘এ সবের কারণ এই যে, তারা ঈমান আনার পর আবার কুফরী করেছে৷ তাই তাদের হৃদয়ে মোহর মেরে দেয়া হয়েছে৷ এখন তারা কিছুই বুঝে না৷’ -(সুরা মুনাফিকুন-৩)

​তামাক ও জর্দার বিধান নিয়ে ঠনঠনিয়ার পীরের সাথে মতবিনিময়

তাং ১৪ মার্চ ২০১৭                     সময়: ৫:৩৯মি.
অংশ গ্রহনে,

আল্লামা রাগিব হাসান ওসমানী সাহেব।

উপাধ্যক্ষ,

ঠনঠনিয়া নুরুন আলা নুর ফাযিল মাদ্রাসা,বগুড়া।

                           ও

বর্তমান পীর সাহেব,ঠনঠনিয়া দরবার শরীফ,বগুড়া।

                           VS

এমডি নোমান

      -কামিল(এমএ),আরবি সাহিত্য।

_____________________________________________

নোমানঃ        হ্যালো,আসসালামু আলাইকুম।

পীর সাহেবঃ ওয়া আলাইকুম সালাম।কে?

নোমানঃ       ঐতো গতকাল ফোন দিয়েছিলাম।রাতে কথা বলবেন বলেছিলেন।তো ভাবলাম ঘুমের ডিস্টার্ব না করাই ভালো সেজন্য দেইনি।

পীর সাহেবঃ রাতেই তো ভালো ছিল।

নোমানঃ       এখন কি বিজি আছেন নাকি?

পীর সাহেবঃ বিজি আছি বলা যায়।মাদ্রাসায় আছি তো।এখানো তো দলিলপত্র নেই।আচ্ছা বলেন।

নোমানঃ       জর্দার ব্যপারটার উত্তর পাইছিলাম না।যদি এ ব্যপারে একটু বলতেন?

পীর সাহেবঃ জর্দা খাওয়া তো জায়েয আছে।

নোমানঃ       তাহলে এটা কিসের ভিত্তিতে জায়েয হচ্ছে।যেহেতু অনেক আলিম ওলামা একমত হয়ে একটা ফতোয়া দিয়েছেন।

পীর সাহেবঃ কী ফতোয়া দিয়েছেন?

নোমানঃ        যেহেতু এতে প্রায় ১৩টি মৃত্যুঝুকিপূর্ণ রোগ হয়,এতে রয়েছে বিশাল ক্ষতি তাই এটা হারাম।

পীর সাহেবঃ গরুর গোস্ত খেলেও তো এলার্জি হয়?

নোমানঃ        হ্যাঁ,এই জন্য না খাওয়া যেতে পারে।যার এলার্জি থাকে ডাক্তার তাকে গরুর গোস্ত না খেতে পরামর্শ দেয়।

পীর সাহেবঃ হ্যাঁ,তো এই জন্য?

নোমানঃ       নিজের ক্ষতি ইচ্ছাকৃতভাবে নিজে করা তো হারাম নাকি?

পীর সাহেবঃ হারামের একটা মাদ্দা আছে তো।ক্ষতি বলতে…….

নোমানঃ       তাছাড়া তিরমিজি শরীফের পানীয় অধ্যায়ের ১৮৭১নং হাদীসে আছে, “যে বস্তু অধিক পরিমাণে খেলে নেশার উদ্রেক হয়,তার অল্প পরিমাণও হারাম।”এখন বলবেন হয়তো জর্দা নেশা সৃষ্টি করেনা।কিন্তু নেশার সজ্ঞা তো ইবনে হাজার আসকালানী (রহ) তার ‘ফাতহুল বারী’ কিতাবে এভাবে দিয়েছেন যে, “যা পান বা গ্রহন করলে মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটে,তাই নেশা।”এখন আমি যদি পেটপুরে জর্দা খাই তবে আমার মস্তিষ্কের অবশ্যই বিকৃতি ঘটবে।

পীর সাহেবঃ দেখেন,পেটপুরে যদি আপনি ঘুমের ওষুধ খান?

নোমানঃ       সেটাও তো জায়েয হবেনা;হারাম হবে।তাতে মানুষের মৃত্যু হতে পারে।ঘুমের ওষুধ অনেকে আত্মহত্যা করার জন্যও খায়।

পীর সাহেবঃ তাহলে এটার কমও খাওয়াও যাবেনা।যেহেতু বেশি খেলে ক্ষতি হয়?[১]

নোমানঃ       আর এখানে কেবল এ বিষয়ই নয়;আরো আছে।এতে প্রায় ১৩টি মৃত্যুঝুকিপূর্ণ রোগের সম্ভাবনা আছে।যেমন,গবেষণায় দেখা গেছে হার্টের রোগে মারা যাওয়া প্রায় ৭০% লোক যেকোন ভাবে তামাকসেবী।আবার ব্রংকাইটিসে মারা যাওয়া প্রায় ৭৫% লোক যেকোন ভাবে তামাকসেবী ছিলেন।হোক সেটা বিড়ি-সিগারেট,তামাকপাতা,জর্দা বা গুল ইত্যাদি।তাহলে তামাকে নিজের মৃত্যুঝুকি রয়েছে আর আমি সেটা গ্রহন করি কি করে?

পীর সাহেবঃ গ্রহন করেন না;তবে হারাম না।হারামের যে সজ্ঞা আছে তার মাঝে পড়ছেনা।ক্ষতির কথা বলছেন তো,একটা একজনের জন্য ভালো আরেক জনের জন্য ক্ষতি।[২] এজন্য হারাম বলা যাবেনা।হারামের একটা মাদ্দা আছে।বুখারী শরীফের ইমান অধ্যায়ের ৫০নং হাদীসে আছে, “হারামও স্পষ্ট হালালও স্পষ্ট।এর মাঝে কিছু আছে সন্দেহযুক্ত।”তাই চট করে হারাম বলা যাবেনা।দালিলুন নস থাকতে হবে।যা জর্দার মাঝে পাওয়া যায়না।জর্দা খেলে মাথা ঘোরে,কিন্তু ইয়ে(নেশা) হয়না।এজন্য খাওয়া হারাম না।তবে ক্ষতি হয় এজন্য না খাওয়াই ভালো।

নোমানঃ       কিন্তু এতে ক্ষতি তো বিশাল।প্রায় ১৩টি মৃত্যুঝুকিপূর্ণ রোগ?

পীর সাহেবঃ আপনারা হারাম বলবেন তার তো দলিল দিতে হবে?

নোমানঃ       দলিল তো দিচ্ছিই।এগুলো কি আপনার কাছে দলিল না?আরো আছে সুরা নিসার ২৯ ও সুরা বাকারার ১৯৫নং আয়াত।যাতে বলা আছে,তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিওনা।নিজের হাতে নিজেকে হত্যা করোনা।আর তামাকের মাধ্যমে আমরা নিজেরা নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছি,হত্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছি।

পীর সাহেবঃ এই যে কুরআনে আছে,سيروا فى الارض এর অর্থ কী?

নোমানঃ       এর অর্থ,তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমন করো।–(সুরা আনকাবুত-২০)

পীর সাহেবঃ তাহলো তো ভ্রমন করা এমন ফরজ হবে,যা না করলে গুণাহ হবে?

নোমানঃ       কিন্তু এমনটি নয় জানি।যাইহোক,আমি সেটা জানতে চাচ্ছিনা।আমি জানতে চাচ্ছি তামাক কেন হারাম নয়?

পীর সাহেবঃ ক্ষতি  আছে তো কোন ধরনের ক্ষতি?ক্ষতি আছে তো খাওয়া মাকরুহ।

নোমানঃ       মৃত্যুঝুকিপূর্ণ ক্ষতি।

পীর সাহেবঃ কোন ক্ষতি আছে মারা যাওয়া ক্ষতি।

নোমানঃ        হ্যাঁ,মারা যাওয়ার ক্ষতিও তো আছে এখানে।

পীর সাহেবঃ কোন ক্ষতি এমন ক্ষতি আছে যে,শারিরীক ক্ষতি হয়না কিন্তু ইমানের ক্ষতি।বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি আছে।এজন্য একটু ক্ষতি থাকলেই হারাম বলা যাবেনা।হারাম বলতে গেলে নামসহ স্পষ্ট হুকুম থাকতে হবে।

নোমানঃ       ও নামসহ থাকতে হবে।তাহলে তো ইয়াবার নাম কুরআন হাদীসে নেই,আমি কি ইয়াবা খেতে পারি?

পীর সাহেবঃ ইয়াবার নাম নেই।কিন্তু ইয়াবার মুশকির আছে।হারাম হবার বৈশিষ্ট্য আছে।

নোমানঃ       সে হিসেবে তামাকেরও তো মুশকির আছে।হারাম হবার বৈশিষ্ট্য আছে?

পীর সাহেবঃ না,আপনার জর্দার যেটা আত্মহত্যার পরিমাণ।খেলে জীবনের ক্ষতি হবে।সেটা তো আত্মহত্যা হারাম বলাই আছে।[৩]

নোমানঃ        হ্যাঁ,এটাতেও তো জীবনের ক্ষতি আছে।প্রায় ১৩টি মৃত্যুঝুকিপূর্ণ রোগের সম্ভাবনা আছে।সম্ভাবনাটা আবার প্রায় ৮০% এর ওপর।

পীর সাহেবঃ সেটা এখন ডাক্তাররা বের করেছে।কিন্তু হারাম হবার জন্য যে দালিলুন নসটা সেটা নেই।

নোমানঃ       মানে নাম ধরে নেই।তো নাম ধরে তো অনেক কিছুই নেই যেগুলো হারাম?

পীর সাহেবঃ নাম নেই;গুণ আছে,বৈশিষ্ট্য আছে।আচ্ছা,আপনি বর্জন করুন।অসুবিধা কী। বর্জন করতে না করছিনা তো।তবে চট করে হারাম বলা যাবেনা।

নোমানঃ       যেহেতু অনেক আলিমগণ হারাম বলেছেন,আমি যে দলিল গুলো বললাম সেগুলোর ভিত্তিতে।সেহেতু আপনি একটু গবেষণা করুন।

পীর সাহেবঃ এতে ক্ষতি,এটা না খাওয়া উচিত।এগুলো বলেন,কিন্তু সরাসরি হারাম বলা যাবেনা।মাকরুহ আছে,মুবাহ আছে বলেন।

নোমানঃ        বর্তমান অধিকাংশ মুজতাহিদ আলিমগণ তো সরাসরি হারামই বলে?

পীর সাহেবঃ কে কোন আলিম বলেছে?তার কোন ইয়ে নেই।কোথাকার?

নোমানঃ        না,অনেক মুজতাহিদ আলিমই তো বলেছে।

পীর সাহেবঃ কোথাকার?এখনকার আলিমের কী আছে?

নোমানঃ        তাই বলে নিজেকে নিজে ক্ষতির দিকে ঠেলে দেয়া,মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া কিছুই না?

পীর সাহেবঃ এটা হতে পারে মাকরুহ,হতে পারে ইয়ে।কিন্তু হারাম না।পূর্বযুগের মুহাদ্দিস,মুফাসসিরগণ খেয়েছেন,তাই এটা হারাম নয়।[৪]

নোমানঃ        পূর্বযুগের ওরা তো খাবেই।কারণ উনারা জানতেন না এর ক্ষতি সমূহ।এখন আমরা জানি।

পীর সাহেবঃ সেটা আপনি না খান।ভালো সেটা।কিন্তু আমি হারাম ফতোয়া দিতে পারবো না।
–(পরিমার্জিত)

_____________________________________________

             ______________________________
[১]আমরা জানি,চিকিৎসার প্রয়োজনে হারাম বস্তুও গ্রহন করা যায়।তাই ঘুমের ওষুধ চিকিৎসার প্রয়োজনে অল্প পরিমণে খেলে তা হারাম হবে এমন বলাটা বোকামী।
[২]তামাক কার জন্য ভালো আর কার জন্য ক্ষতি?আমার জানামতে এর কোন ভালো দিক নেই।থাকলেও তা ক্ষতির বিবেচনায় খুবই সামান্য।অতএব,এরুপ বলাটা মস্তবড় অজ্ঞতার পরিচায়ক।
[৩]তামাক মানুষকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।যে ক্ষতিসমূহ জেনেও গ্রহণ করে।সে তামাক জনিত রোগে মৃত্যু হলে আত্মহত্যা হওয়াটায় স্বাভাবিক।
[৪]এতক্ষণে বুঝতে পারলাম উনি উনার পূর্ব পুরুষদের অন্ধভক্ত।উনার পূর্ব পুরুষরা ভুল করলে তাই সঠিক।পীর সাহেব ধরেই নিয়েছেন যে,আমার পূর্বরা ভুল করতেই পারেনা।সেজন্য তিনি হারাম ফতোয়া দিতে পারবেন না।আল্লাহ উনাকে ভুল বুঝতে পারার তাওফিক দিন।
বি:দ্র: কাউকে ছোট বা হেয় করার জন্য নয়।সঠিক বিধান জানাই আমাদের উদ্দেশ্য।এই ফোনালাপ মতবিনিময়ের বিচারের ভার পাঠক ও শ্রোতা মন্ডলীর প্রতিই ন্যস্ত করা হলো।

ফোনালাপ মতবিনিময়টির ভিডিও দেখতে  https://m.youtube.com/watch?v=Q7TARGtRnGE এখানে ক্লীক করুন।

​’শহীদ’ শব্দের অর্থ ও তার উৎপত্তি

বাংলা ভাষা আন্দোলন আর বাংলা দেশের স্বাধীনতার অনেক বছর পার হয়ে গেলেও বাঙ্গালিরা নিহত ভাষা সৈনিকদের আর বাংলাদেশিরা নিহত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি নির্ভেজাল বাংলা শব্দ দিয়ে সম্মান জানাতে পারলো না।তাদের সম্মান জানাতে ধার করতে হয়েছে একটি বিদশি ভাষার শব্দ “শহীদ”।

প্রাচীন আরবি ভাষায় শহীদ শব্দের অর্থ সাক্ষী।
অক্সফোর্ড ডিকশনারি অনুসারে: বলা হয়েছে শহীদ শব্দটি এসেছে এরাবিক শব্দ থেকে যার অর্থ a Muslim martyr.
এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা অনুসারে: এখানে বলা হয়েছে এটা একটা ইসলামিক পদমর্যাদা। আরও বলা হয়েছে শহীদ শব্দটার অর্থ সাক্ষ্য প্রদানকারীর মৃত্যু।
উইকিপিডিয়া অনুসারে: শহীদ শব্দটি হল একটি এরাবিক শব্দ, ইহা এসেছে কুরআনিক এরাবিক শব্দ হিসেবে। ইহার অর্থ হল সাক্ষ্য দানকারী। এই সম্মানসূচক শব্দটা কেবল সে সব মুসলমানের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় যারা তাদের জীবন সম্পূর্নরুপে ধর্মীয় নির্দেশনার (যারা সাক্ষ্য দেয় আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মহানবী স: আল্লাহর একমাত্র রসূল) কাজে উৎসর্গ করেছেন অথবা তাদের দেশ অথবা পরিবারের জন্য জীবন দিয়েছেন।

এখানে আরও বলা হয়েছে শহীদ কথাটা দ্বারা witness (অর্থাৎ সাক্ষ্যদানকারী – যারা সাক্ষ্য দেয় আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মহানবী স: আল্লাহর একমাত্র রসূল এবং এই সাক্ষ্য রক্ষার্থেই নিহত হয়) বুঝায়, কিন্তু এটা কখনই martyr সূচিত করে না। কিন্তু পরবর্তীতে আরব খ্রীষ্টান, সাউথ এশিয়ান হিন্দু আর শিখরা তাদের martyr দের চিহ্নিত করতে আর সম্মানসূচক কোন সমার্থক শব্দ না পেয়ে তারাও শহীদ বা ‘shaheed শব্দের ব্যবহার শুরু করে।

[এখানে আরও বলে রাখা দরকার শহীদ শব্দটা নিজস্ব অলংকারিক আরবী শব্দ, ইহার ব্যকরনগত তাৎপর্য আমাদের বুঝতে হবে। শহীদ শব্দকে বুঝাতে witness আর martyr শব্দদ্বয় ব্যবহার করা হয়। শহীদ শব্দটা কখনই এই শব্দদ্বয় থেকে আসে নি বরং এই শব্দ দুটিই শহীদের তাৎপর্য বুঝাতে ব্যবহার করা হয় (যদিও এই দুটি শব্দ দ্বারাও পুরোপুরি তাৎপর্য প্রকাশ পায় না) – দি ফার্ষ্ট এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম।]
সুতরাং, শহীদ হল কুরআনিক এরাবিক শব্দ – তাই এটাকে মুসলমানদেরই স্বত্তাধিকারি বলা চলে। খ্রীষ্টান, সাউথ এশিয়ান হিন্দু আর শিখরা এই শব্দ ব্যবহার করেন সমমানের শব্দ খুজে না পেয়ে। আর তাই তারা কুরআনিক শব্দ শহীদ ব্যবহার করেছেন।
দি ফার্ষ্ট এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম, ভলিউম – ০৭, পৃষ্টা – ২৫৯, ২৬০: এখানে বলা হয়েছে শহীদ শব্দটা প্রায়ই কুরআনে ব্যবহার করা হয়েছে। এই বইয়ে ইহার অর্থ প্রকাশের জন্য witness আর martyr ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে আবার বলা হয়েছে যে martyr দ্বারা এ শব্দের অনুরুপ বা সমান্তরাল কোন অর্থ প্রকাশ পায় না।
উপরের তথ্য-প্রমান আর রেফারেন্সের ভিত্তিতে আমরা বলতে পারি যে শহীদ শব্দটা কেবল মুসলমানদের জন্যই প্রজোয্য। উপরে যে সব রেফারেন্স ব্যবহার করা হয়েছে তার বেশীর ভাগই অমুসলিমদের তৈরীকৃত। যেহেতু মুসলমানরাই শহীদ শব্দটার স্বত্তাধিকারী এবং মুসলমানরা যেহেতু কুরআন-সু্ন্নাহ-হাদীস মেনে চলে সেহেতু কুরআন আর হাদিস যদি বলে অমুসলীমদের শহীদ বলা যাবে তাহলে আমরা তাকে শহীদ বলব আর কুরআন-হাদীস যদি বলে অমুসলিমদের শহীদ বলা যাবে না তাহলে আমরা তাই মেনে নিব। আসুন এবার কুরআনিক আর হাদিসের মাধ্যমে বিশ্লেষন করি আসলেই অমুসলিমরা শহীদ কিনা।
কুরআনে বলা হয়েছে:

আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে তারাই তাদের পালনকর্তার কাছে সিদ্দীক ও শহীদ বলে বিবেচিত। তাদের জন্যে রয়েছে পুরস্কার ও জ্যোতি এবং যারা কাফের ও আমার নিদর্শন অস্বীকারকারী তারাই জাহান্নামের অধিবাসী হবে। – (সুরা হাদীদ-১৯)
আর যারা আল্লাহর রাহে নিহত হয়, তাদেরকে তুমি কখনো মৃত মনে করো না। বরং তারা নিজেদের পালনকর্তার নিকট জীবিত ও জীবিকাপ্রাপ্ত। -(সুরা ইমরান-১৬৯)
যারা আল্লাহর পথে গৃহ ত্যাগ করেছে, এরপর নিহত হয়েছে অথবা মরে গেছে; আল্লাহ তাদেরকে অবশ্যই উৎকৃষ্ট জীবিকা দান করবেন এবং আল্লাহ সর্বোৎকৃষ্ট রিযিক দাতা। (সুরা হাজ্জ-৫৮)
আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বুঝ না। -(সুরা বাকারা-১৫৪)
তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং আল্লাহর পথে নিজেদের ধন-সম্পদ ও জীবনপণ করে জেহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম; যদি তোমরা বোঝ। -(সুরা সফ-১১)
শহীদ কাকে বলে?নীচের হাদিস তার প্রমান –

– হযরত সাঈদ বিন যায়েদ থেকে বর্ণিত। রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন-”যে ব্যক্তি (মুসলিম) নিজ সম্পত্তি রক্ষায় নিহত হয় সে শহীদ। যে ব্যক্তি নিজ পরিবার রক্ষায় নিহত হয় সেও শহীদ। অথবা প্রাণ রক্ষায় কিংবা দ্বীন রক্ষায় নিহত হয় সেও শহীদ। -(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-৪৭৭৪, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৬৫২)
হযরত জাবের বিন আতীক রাঃ থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন – আল্লাহর পথে মৃত্যুবরণ করা ছাড়াও সাত প্রকার শহীদ রয়েছে। 

১-মহামারীতে মৃত্যুবরণকারী শহীদ। 

২-পানিতে নিমজ্জিত শহীদ। 

৩-শয্যাশায়ী অবস্থায় মৃত শহীদ। 

৪-পেটের রোগ মৃত্যুবরণকারী শহীদ। 

৫-আগ্নিদগ্ধ ব্যক্তি শহীদ। 

৬-যে ব্যক্তি ধ্বংসাবশেষের নিচে পড়ে মারা যায় সেও শহীদ। 

৭-সন্তান প্রসব করতে মারা যাওয়া নারীও শহীদ। -{মুয়াত্তা মালিক, হাদিস নং-৫৫৪, ৮০২, আল মু’জামুল কাবীর, হাদিস নং-১৭৮০, সহীহ কুনুজু সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ, হাদিস নং-২৩}
শহীদ বলা হয় ঐ ব্যক্তিকে, যাকে কাফেররা হত্যা করে যেকোন কারণেই হোক। অথবা ইসলামী খিলাফতের বিরুদ্ধাচরণকারী, অথবা ডাকাত, অথবা স্বীয় বাড়িতে চোর হত্যা করে, অথবা যাকে কাফেরদের সাথে অনুষ্ঠিত জিহাদের ময়দানে পাওয়া যায়, সাথে সাথে তার গায়ে থাকে কাটার দাগ, বা ক্ষত কিংবা পোড়ার চিহ্ন, কিংবা চোখ বা কান থেকে রক্তক্ষরণ অবস্থায়, মুখ বা কান থেকে নয়{কেননা কান বা মুখ থেকে আঘাত ছাড়াও রক্ত বের হতে পারে}। অথবা যাকে হত্যা করেছে কোন মুসলিম ইচ্ছেকৃত জুলুম করে, ভুল করে নয়। হত্যা করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভার দিয়ে নয়।উক্ত ব্যক্তির নাম শহীদ। তাকে শহীদ এজন্য বলা হয় যে, সে জান্নাতে উপস্থিত হয়ে যায়। -{ফিক্বহুল ইবাদাত, কিতাবুস সালাত, ১০ম অধ্যায়, জানাযা-১/১২৩}
সারাংশ: –

‘শহীদ’ শব্দটি কুরআন নাজিলের পূর্বে আরবি ভাষায় থাকলেও কুরআন নাজিলের পর ইসলামী সর্বপ্রথম নিহত মুসলিমদের একটি সম্মানজনক উপাধি হিসেবে ‘শহীদ’ শব্দটিকে একটি পরিভাষা হিসেবে ব্যবহার করে।
১. পরবর্তীতে আরব খ্রীষ্টান, সাউথ এশিয়ান হিন্দু আর শিখরা তাদের তাদের martyr দের চিহ্নিত করতে আর সম্মানসূচক কোন শব্দ না পেয়ে তারাও শহীদ বা ‘shaheed শব্দের ব্যবহার শুরু করে।
২. উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে ৭১ এর অমুসলিম মুক্তিযোদ্ধাদেরকে ও ৫২ এর ভাষা সৈনিকদের যদি শহীদ বলা হয় তাহলে মানতে হয় যে মুসলিম হিসেবে নয় বরং অন্যান্যদের মত অমুসলিম হিসেবে এই শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে। অমুসলিম হিসেবে যদি শহীদ ব্যবহার করা হয় তাহলে তার জানাযার নামাজ পড়া, কবর জেয়ারত ও ফাতেহা অযৌক্তিক। আসলে তিনি মুসলিম না অমুসলিম? সুতরাং তারই ইথিকস ও ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী জানাযার নামায পড়া আর শহীদ শব্দের ব্যবহার করা তার জন্যই অপমানজনক।
৩. আরবি শহীদ শব্দটি কখনই ইংরেজি martyr বোঝায় না। শহীদ শব্দটা একটা মৌলিক শব্দ যেটা কুরআন থেকে এসেছে অন্য কোন শব্দ থেকে নয়। ইংরেজী শব্দটি আরও অনেক আগে থেকেই ছিল, কিন্তু সেটা দ্বারা ততখানি সম্মান বুঝানো সম্ভব হয় নি যতটা শহীদ দ্বারা বুঝানো যায়। তাই পরবর্তীতে তারা কুরআনের এই শব্দকে ধার করে। সুতরাং নিশ্চয়ই এই শব্দের প্রয়োগ ও সম্মান তার চাইতে অনেক বেশী। এখানে তারা ধার করেছে বলে যে শহীদ শব্দের মান কমে গেছে তা নয়। তারা শব্দ পাই নি বলে ধার করেছে, তাই বলে শহীদ শব্দটি দায়ী নয়।
৪. একই ভাবে ‘শহীদ’ বাংলা শব্দের ক্ষেত্রে বলা যায় বাঙ্গালিরাও শব্দটি ধার করেছে। এটা এখন আমাদের নিজের পরিভাষা।পরিভাষাটার সম্পূর্ন সমার্থক অর্থ আমরা পাই নি বলে।
বি:দ্র:আমরা জানি,অমুসলিম মানে যারা আল্লাহ ও রাসুলে অবিশ্বাস করে।কিন্তু আসলে তা নয়;বরং আল্লাহ ও রাসুলে বিশ্বাস করেও অনেকে অমুসলিম হতে পারে।আল্লাহ বলেন,অধিকাংশ লোক ইমান আনা সত্বেও মুশরিক। -(সুরা ইউসুফ-১০৬)।কুরআন হাদীসের আলোকে অমুসলিম কারা তা জানতে এখানে ক্লীক করুন https://mdnomansite.wordpress.com/2017/02/17/%e0%a6%88%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%ad%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%82%e0%a6%b9/

​দেশপ্রেম সম্পর্কে একটি জাল হাদিসের বিশ্লেষণ

দেশপ্রেম তথা যেখানে মানুষ জন্মমগ্রহন করে তার সেই জন্মমভূমির প্রতি ভালোবাসা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি।ইসলাম এটাকে মূল্যায়ন করেছে একই সাথে তার সীমাও নির্ধারণ করেছে।আর সেই সীমা অতিক্রম করলে কখনো গুনাহগার কখনো ইমানহারা হতে হয়।দেশ বা জন্মভূমির প্রতি প্রেমে ইসলাম স্বীকৃতি দিলেও তা কখনোই ইমানের অঙ্গ নয়।তথাপি “দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ” এই নামে একটি জাল হাদিস বহুল প্রচারিত।হাদীসটি সম্পর্কে আলিমগণের মন্তব্য নিম্নরুপ:
জাল হাদীস কি?

যে সকল হাদীস হাদীস নয়। মানে কিছু কথা আছে এমন, যেগুলো রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেন নি, কিন্তু মিথ্যুকেরা সেগুলো রাসুলুল্লাহ (সা:) এর নামে চালিয়ে দিয়েছে – সেইগুলোকে মওযু বা জাল হাদীস বলা হয়। 

রাসুল (সা) বলেছেন, যে আমার নামে এমন কোন কথা বলবে যা আমি বলিনি, তাহলে সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়। -(সহীহ বুখারী-১১০)
“দেশ প্রেম ইমানের অঙ্গ” এই জাল হাদিসটি সম্পর্কে শেইখ নাসিরুদ্দিন আলবানি (রহ) বলেছেন, “হাদিসটি জাল। যেমনি ভাবে সাগানি (রহ) ও অন্যরা বলেছেন। এটির অর্থও সহিহ নয়। কারণ এ ভালবাসা নিজেকে এবং নিজের সম্পদকে ভালবাসার মতই প্রত্যেক ব্যক্তির মধ্যে মূলগত ভাবে বিদ্যমান। শরিয়াতের দৃষ্টিকোণ থেকে এ ভালবাসার প্রশংসা করা যায় না।এটি ইমানের জন্য অপরিহার্যও নয়। আপনারা কি দেখছেন না যে, এ ভালবাসায় মুমিন এবং কাফিরের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। -[জাল ও য’ইফ হাদিসের সিরিজ- নাসিরুদ্দিন আলবানি]
ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর বলেছেন,

“হাদিস হিসেবে কথাটি একেবারেই ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও বানোয়াট। এছাড়া কথাটির অর্থ ইসলামি দৃষ্টি ভঙ্গির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কাজেই একে আলিমগনের কথা বা ইসলামি দৃষ্টি ভঙ্গির কথা বলে চালানোর যৌক্তিকতা নেই। ইমান ও ইসলাম ঐ সব কর্মের সমষ্টি যা মানুষ তার স্বাধীন ইচ্ছার মাধ্যমে স্বেচ্ছায় করতে পারে বা অর্জন করতে পারে।প্রাকৃতিক ভাবে বা জন্মগত ভাবে যে সকল বিষয় অর্জিত হয় তাকে ইমানের বা ইসলামের অংশ বলা হয় না।কারণ এগুলো ঐচ্ছিক বা ইচ্ছাধীন কর্ম নয়। জন্মস্থান, আবাসস্থল, বন্ধুবান্ধব, স্ত্রী, সন্তান, পরিজন ও পিতামাতার প্রতি ভালবাসা একটি প্রকৃতিগত বিষয়। মানুষ সৃষ্টি গত ভাবে এদের প্রতি মায়া, ভালবাসা অনুভব করে। এগুলির কোনটিই ইমানের অংশ নয়। এজন্য পিতামাতার আনুগত্য ও সেবাকে ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলা হয়েছে, পিতামাতাকে ভালবাসা নয়। অনুরূপ ভাবে দেশের প্রতি, আবাসস্থলের প্রতি, পাড়া প্রতিবেশিদের প্রতি মুসলিমের অনেক দায়িত্ব আছে, যা তিনি ইচ্ছাধীন কর্মের মাধ্যমে পালন করতে পারবেন। কিন্তু প্রাকৃতিক ভালবাসাকে ইমানের অংশ বলা ইসলামের ধারনার সাথে পুরুপুরি মেলে না। -[হাদিসের নামে জালিয়াতি- ডঃ খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর]
এছাড়াও,ইবনে জাওযি একে জাল হাদিস বলে প্রমাণ করেছেন।
“দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ” কথাটিকে আল্লামা হাসান বিন মুহাম্মদ সাগানী (রহঃ) জাল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। -[রিজালাতুল মাওযুয়াত-৭]
এর অসারতার বর্ণনা দিতে গিয়ে মুহাদ্দিস ইসমাঈল আজলুনী উল্লেখ করেন যে, ইমাম সাগানী হাদীসটিকে মওজু বলেছেন, প্রখ্যাত মুহাদ্দিস মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী বলেন, হাফিজুল হাদীসগণের নিকট হাদীসটির কোন ভিত্তি নেই। মুহাদ্দিস জরকশী বলেন, আমি এ হাদীসটির ব্যাপারে অবগত নই। মুহাদ্দিস মুঈনুদ্দীন শফবী বলেন, এ হাদীসটি আমার নিকট প্রমাণিত নয়; বরং এটা কোন পূর্ববর্তী বুজুর্গের উক্তি, আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানীও এ হাদীসটিকে মওজু বলেছেন। -[মওজুআতে কুবরা পৃ. ১০৯, আল মাসনু- পৃ.৯১, কাশফুল খফা খন্ড-১, পৃ. ৩৪৫; মাওজুআতে সাগানী পৃ. ৫৩; আল-মাকাসেদুল হাসানাহ পৃ. ২৭৯]
মোল্লা আলী ক্বারী (রহঃ) এ সম্পর্কে বলেন-হাফেযে হাদীস মুহাদ্দিসীনদের নিকট এর কোন ভিত্তি নেই। -[আল মাসনু’-৯১]
আরো দ্রষ্টব্যঃআল মাকাসিদুল হাসানা-২১৮,তাযকিরাতুল মাওযুয়াত-১১,আদ্দুরারুল মুনতাসিয়া-১১০,মিরকাতুল মাফাতীহ-৪/৫,আল মাওযূয়াতুল কুবরা-৬১,আল লুউলুউল মারসু-৩৩,প্রচলিত জাল হাদীস-১৪৩-১৪৪।
এটি একটি নবী (সা) এর নাম ব্যবহার করে প্রচারিত বানোয়াট হাদিস। এধরনের হাদিসের বর্ণনাকারিদের মধ্যে এক বা একাধিক জন প্রতারক এবং কুখ্যাত হাদিস জালকারি বলে স্বীকৃত। অনেক সময় বর্ণনাকারিদের নামগুলোও মিথ্যা বানানো। এছাড়াও হাদিসটি কোন স্বীকৃত হাদিস গ্রন্থে পাওয়া যায়নি। অনেক সময় এধরনের হাদিস পীর, দরবেশ, আলেমরা নিজেরাই বানিয়ে প্রচার করেছেন কোন বিশেষ স্বার্থে।
এই হাদিসটি মুসলমানদের মিথ্যা আশা দেয় যে তারা দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা না করেও দেশ প্রেমের জন্য জান্নাতে যেতে পারবে। যেই দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয় নি এবং যেই দেশের সরকার ইসলামের নিয়ম অনুসারে দেশ পরিচালনা করে না, সেই দেশের জন্য প্রেম ঈমানের অঙ্গ হতে পারে না। ঈমানের একটি অত্যাবশ্যকীয় দাবি হচ্ছে আল্লাহ যেটা আমাদের জন্য ভালো বলেছেন সেটাকে মনে প্রাণে ভালো মানা এবং আল্লাহ আমাদের জন্য যেটাকে খারাপ বলেছেন, সেটাকে মনে প্রাণে ঘৃণা করা।
এই ধরণের জাল হাদিস ব্যবহার করা হয় ধর্মের দোহাই দিয়ে দেশের মুসলমানদের মধ্যে দেশের প্রতি অন্ধ ভালবাসা সৃষ্টি করার জন্য। কাফির সরকার দ্বারা পরিচালিত কাফির শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত একটি দেশের প্রতি প্রেম আর যাই হোক, অন্তত আল্লাহর প্রতি ঈমানের অঙ্গ নয়।

তবে এটা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে দেশের আইন মেনে চলা এবং দেশের উপকার করা মুসলমানদের জন্য অত্যাবশ্যকীয়, যতক্ষণ না সেটা ধর্মের বিরুদ্ধে না যাচ্ছে।
আল্লাহ বলেন, হে বিশ্বাসীরা, তোমরা সকল অঙ্গীকার পূর্ণ কর। -[সূরা মায়িদা-১]
আল্লাহ আরো বলেন, তোমাদের অঙ্গীকার পূর্ণ কর। নিশ্চয়ই তোমাদেরকে অঙ্গীকারের ব্যপারে জিজ্ঞেস করা হবে। -[সূরা বানি ইসরাইল-৩৪]
আল্লাহ আরো বলেন, নিশ্চিত করার পরে কোন অঙ্গীকার ভাঙ্গবে না কারণ তোমরা আল্লাহকে সাক্ষী করেছ। – [সুরা নাহাল-৯১]
আমরা যখন যেই দেশে থাকছি, আমরা সেই দেশের আইন মেনে চলার অঙ্গীকার করে সেই দেশে থাকার অনুমতি পাই। সুতরাং ধর্মীয় সীমা না ভেঙ্গে দেশের আইন মেনে চলতে আমরা বাধ্য, যেহেতু আমরা অঙ্গীকার করেছি।
রাসুল (সা) বলেছেন, কারো মিথ্যাচার হবার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা কিছু শোনে তাই বর্ণনা করে। -[সহীহ মুসলিম ১/৮-হাঃ নং-৫,সুনানে আবু দাউদঃ২/৬৮১ হাঃ৪৯৮২]

​ইসলামের আলোকে দেশপ্রেম ও তার সীমারেখা 

একজন মানুষ যখন পৃথিবীর বিশাল ভূখন্ডের কোনো এক অংশে জন্মলাভ করে, সেখানকার আলো-বাতাস গ্রহণ করে, সেখানে বেড়ে ওঠে, তখন স্বাভাবিকভাবেই সেখানকার মাটি-মানুষের প্রতি অন্যরকম হৃদ্যতা ও আপনত্ব অনুভব করে। জন্মভূমির প্রতি মানুষের এই স্বভাবজাত আকর্ষণকে ইসলাম মূল্যায়ন করেছে।স্বয়ং মহানবী (সা.) এর মাঝেই তাঁর জন্মভূমি মক্কার প্রতি ভালোবাসা ফুটে উঠেছে।

পবিত্র মক্কা শরীফ থেকে বিদায়ের প্রাক্কালে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, ‘‘ভূখন্ড হিসেবে তুমি কতই না উত্তম, আমার কাছে তুমি কতই না প্রিয়। যদি আমার স্বজাতি আমাকে বের করে না দিতো তবে কিছুতেই আমি অন্যত্র বসবাস করতাম না।’’ (জামে তিরমিযী, হাদীস : ৩৯২৬)
তবে মক্কা নগরী কেবল রাসূলের জন্মভূমি ছিল বলেই তাকে ভালোবেসেছেন তা নয়,বরং এর আরেকটি বড় কারণ হলো এটি একটি পবিত্র ভূখন্ড,যেখানে আল্লাহর ঘর প্রতিষ্ঠিত।
ইসলামে এ দেশপ্রেম কেবল জন্মভূমির প্রতিই নয়;আবাসভূমির প্রতিও সমান থাকতে হবে।যেমন:

এক হাদীসে হযরত আনাস রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো সফর থেকে ফিরে আসতেন, দূর থেকে মদীনার জনপদ নজরে আসতেই তিনি তাঁর উটনীর গতি বাড়িয়ে দিতেন, অথবা কোনো চতুষ্পদ জন্তুর উপর থাকলে তাকে নাড়াতে থাকতেন। বস্ত্তত মদীনার প্রতি ভালবাসার দরুনই তিনি এমনটি করতেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস ১৮০২)
আরেক হাদীসে হযরত আনাস রা. বলেন, ‘আমি খেদমতের নিয়তে রাসূলের সাথে খায়বার অভিযানে গেলাম। অতঃপর যখন অভিযান শেষে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে এলেন, উহুদ পাহাড় তাঁর দৃষ্টিগোচর হল তিনি বললেন, এই পাহাড় আমাদেরকে ভালবাসে, আমরাও একে ভালবাসি। (সহীহ বুখারী, হাদীস : ২৮৮৯)
মোটকথা, স্বদেশের প্রতি মানবমনের এই স্বভাবজাত অনুরাগকে ইসলাম সমর্থন করে। কিন্তু এই দেশপ্রেম যদি সীমা অতিক্রম করে আত্মঅহমিকা কিংবা আত্মকেন্দ্রিকতার জন্ম দেয়, অথবা যদি মানুষকে অন্ধত্ব ও উগ্রতার দিকে নিয়ে যায় এবং আল্লাহর সৃষ্টি অন্য কোনো দেশ বা ভূখন্ডের বিরুদ্ধে অন্যায় বিদ্বেষের জন্ম দেয়, তাহলে ইসলাম কখনোই তা সমর্থন করে না।তাই ইসলামে দেশপ্রেমের সীমাও নির্ধারিত।দেশপ্রেমের অজুহাতে যেসব কর্মকান্ড ইসলাম নিষেধ করে নিম্নে তার কয়েকটি সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা হলো।
   ১।দেশপ্রেমকে কারো সম্মান-মর্যাদার মানদন্ড গণ্য করা যাবেনা।কেননা ইসলামের কাছে মর্যাদার মানদন্ড হচ্ছে তাকওয়া ও খোদাভীতি। এই তাকওয়ার গুণে যে ভূষিত হবে সেই সম্মান-মর্যাদার অধিক উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবে। চাই সে কোনো অখ্যাত দেশের বাসিন্দাই হোক না কেন।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে মর্যাদাবান সে যে আল্লাহকে সর্বাধিক ভয় করে। –(সূরা হুজুরাত, আয়াত : ১৩)
রাসূল (সা.), আমার নিকটবর্তী লোক তো তারাই যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে, তারা যেমনই হোক, যেখানেই থাকুক। –(মুসনাদে আহমদ ৫/২৩৫)
   ২।নিজ দেশ ও অন্যদেশের মুসলিমদের মাঝে কোনরুপ পার্থক্য করা যাবেনা।নিজ দেশের মুসলিমরা যেমন আপন,অন্যদেশের মুসলিমদের তেমনি আপন মনে করতে হবে।নিজ দেশের মুসলিমরা যেমন অধিকার ভোগ করে,অন্য দেশের মুসলিমরা এলে তেমনি অধিকার দিতে হবে।অন্য দেশের মুসলিমকে নিজদেশের অমুসলিমের ওপর অগ্রাধিকার দেয়া যাবেনা।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয় মুমিনগণ পরস্পর ভাই ভাই। –(সুরা হুজুরাত, আয়াত:১০)
রাসুল (সা.) বলেছেন, মু’মিনদের একে অপরের প্রতি সম্প্রীতি, দয়া ও মায়া-মমতার উদাহরণ (একটি) দেহের মত। যখন দেহের কোন অঙ্গ পীড়িত হয়, তখন তার জন্য সারা দেহ অনিদ্রা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়।’’ (বুখারী-৬০১১ ও মুসলিম-২৫৮৬ এবং রিয়াদুস সলিহীন-২২৯)
রাসুল (সা.) আরো বলেছেন, হে লোকসকল! জেনে রেখো তোমাদের প্রতিপালক একজন, তোমাদের পিতা একজন। জেনে রেখো, অনারবের উপর আরবের, আরবের উপর অনারবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। সাদার উপর কালোর, কালোর উপর সাদার কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তবে তাকওয়ার ভিত্তিতে একজন আরেকজনের উপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে পারবে। -(মুসনাদে আহমদ, ৫/৪১১)
   ৩।নিজদেশের বা অন্যদেশের মুসলিম বা অমুসলিম সকলের প্রতি ন্যায়বিচার করতে হবে।দেশপ্রেমের অজুহাতে কারো প্রতি অন্যায় করা যাবেনা।
আল্লাহ বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর জন্য ন্যায় সাক্ষ্যদানের ব্যাপারে দৃঢ়পদ থাকো। কোনো জাতির প্রতি বিদ্বেষ যেনো তোমাদেরকে কিছুতেই ন্যায়বিচার পরিত্যাগ করতে প্ররোচিত না করে। তোমরা ইনসাফ ও ন্যায়বিচার করো। এটাই তাকওয়া ও আল্লাহভীতির অধিক নিকটবর্তী। [সূরা মায়েদা : আয়াত ৮]
মক্কা বিজয়ের সময়কার ঘটনা। আরবের এক সম্ভ্রান্ত কবিলা বনু মাখজুমের এক নারী চুরি করে বসে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরআনের বিধান অনুসারে হাত কাটার আদেশ দেন। সম্ভ্রান্ত বংশের মেয়ে বলে সবাই বিচলিত হন, প্রিয় নবীজির প্রিয়পাত্র হজরত উসামা ইবনে জায়েদকে গিয়ে ধরেন, তুমি একটু সুপারিশ করো। তিনি সুপারিশের বাণী মুখে আনতেই নবীজি ক্ষুব্ধ হলেন। বললেন : আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত বিধানের ক্ষেত্রে সুপারিশ করছ? তারপর সবার উদ্দেশে ভাষণ দিলেন এবং বললেন : শোনো! তোমাদের পূর্ববর্তী লোকরা এ কারণেই ধ্বংস হয়েছে। তাদের মধ্যে সম্ভ্রান্তজনরা চুরি করলে তাকে ছেড়ে দিত আর দুর্বল কেউ চুরি করলে তাকে শাস্তি দিত! খোদার কসম! যদি মুহাম্মদের কন্যা ফাতেমাও চুরি করত আমি তার হাত কেটে দিতাম। -[সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩২৮৮; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৬৮৮]
হজরত ওমর রা.-এর শাসনামল। তার দরবারে মোকদ্দমা এসেছে। একজন মুসলমান অপরজন ইহুদি। হজরত ওমর ইহুদির পক্ষে রায় দিয়েছেন। -[তারগিব ওয়া তারহিব : ৩:৪৪৫]
   ৪।দেশপ্রেমের অজুহাতে কারো মূর্তি তৈরী,করবে বা প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ইত্যাদি শিরক কুফরমুলক কর্মকাণ্ড করা যাবেনা।
রাসুল (সা.) বলেন, প্রতিকৃতি তৈরিকারী (ভাস্কর, চিত্রকর) শ্রেণী হল ওইসব লোকদের অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে কিয়ামত-দিবসে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি প্রদান করা হবে।’ -(সহীহ বুখারী হা. ৫৯৫০)
খলীফা ওমর (রাঃ)-এর সময় তাকে সংবাদ দেয়া হল যে, কতিপয় মানুষ ঐ বৃক্ষের উদ্দেশ্যে যাতায়াত করে যে বৃক্ষের নীচে ছাহাবীগণ নবী করীম (ছাঃ)-এর হাতে বায়‘আত করেছিলেন। অতঃপর তিনি [ওমর (রাঃ)] ঐ বৃক্ষকে কেটে ফেলার নির্দেশ দিলেন। -(ফাৎহুল বারী ৭/৪৪৮)।
   ৫।দেশপ্রেমের নামে শিরক কুফরমুলক গান রচনা,বাদ্যযন্ত্রসহ দেশাত্মবোধক গান-বাজনা করা যাবেনা।
আল্লাহ বলেন,নিশ্চয় শিরক হলো সবচেয়ে বড় জুলুম। -(সুরা লুকমান-১৪)
রাসুল (সা.) বলেন, নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মধ্যে এমন ব্যক্তিদের আগমণ ঘটবে, যারা যিনা, রেশম, শরাব এবং বাদ্য-যন্ত্রকে হালাল মনে করবে। -[বুখারী শরীফ-৫৫৯০]
   ৬।দেশপ্রেমের অজহাতে, “আমার দেশই পৃথিবীর সেরা দেশ।আমার দেশের মাটি সোনা আর অন্যদেশের মাটি কেবলই মাটি।” এমন হিংসাত্মক ও অহংকার সুলভ কথা বা মনোভাব পোষণ করা যাবেনা।
আল্লাহ বলেন, এবং আশ্রয় চাই হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে”। (সূরা ফালাক : ৫)
রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা পরস্পরে বিদ্বেষ করো না, হিংসা করো না, ষড়যন্ত্র করো না ও সম্পর্ক ছিন্ন করো না। তোমরা পরস্পরে আল্লাহর বান্দা হিসাবে ভাই ভাই হয়ে যাও’। -[বুখারী-৬০৭৬]
রাসুল (সা.) বলেন, ঐ ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না যার অন্তরে কণা পরিমাণ অহংকার রয়েছে। জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করল, লোকেরা চায় যে, তার পোষাক সুন্দর হৌক, তার জুতা জোড়া সুন্দর হৌক। জবাবে তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর। তিনি সৌন্দর্য পসন্দ করেন। ‘অহংকার’ হ’ল ‘সত্যকে দম্ভের সাথে পরিত্যাগ করা এবং মানুষকে তুচ্ছ জ্ঞান করা’। -[মুসলিম শরীফ-৯১]
মূলকথা হলো,ভূখন্ড তো মানবের সেবক, সৃষ্টিকর্তা নয়, ইলাহ ও উপাস্যও নয়। সৃষ্টিকর্তা তো আল্লাহ, ইলাহও একমাত্র তিনিই। বন্দেগী ও উপাসনার একমাত্র অধিকারী তিনি। চূড়ান্ত ভক্তি-ভালবাসা ইতাআত ও আনুগত্যও একমাত্র তাঁরই প্রাপ্য। অন্য সকল ভক্তি ও আনুগত্য তাঁরই বিধানের অধীন।মানবের ভূখন্ড তো মানবের চেয়ে বড় নয়, ভ্রাতৃত্বের সম্প্রীতি ও আদর্শের চেয়েও বড় নয়।তাই দেশের প্রতি প্রেম দেখাতে গিয়ে ইসলামী বিধান বহির্ভুত কোন কাজ করা যাবেনা।সবসময়ের জন্য দেশের চেয়ে দীনকেই বড় করে দেখতে হবে।কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে,দেশপ্রেমের নামে যা করা ইসলামে বৈধ নয় আমরা সেগুলোই করে চলছি।অনেকে আবার “দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ” মর্মে একটি জাল হাদিসও বানিয়ে ফেলেছি।